ADS

নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

 Driving license 

নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

বাংলাদেশে বৈধভাবে মোটরসাইকেল, কার বা যেকোনো যানবাহন চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বিআরটিএ (BRTA) তাদের পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনলাইন বা ডিজিটাল করে ফেলেছে। এখন আপনি ঘরে বসেই লার্নার লাইসেন্সের আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষার ডেট নেওয়া এবং ফি জমা দেওয়ার কাজগুলো করতে পারবেন।



📌 আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

অনলাইনে বসার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলোর স্পষ্ট ছবি বা স্ক্যান কপি গুছিয়ে হাতের কাছে রাখুন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আপনার এনআইডি কার্ডের কপি (অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়েও করা যায়, তবে এনআইডি থাকলে সবচেয়ে ভালো)।

  • মেডিকেল সার্টিফিকেট: বিআরটিএ নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সীলসহ মেডিকেল সার্টিফিকেট (এটি ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়)।

  • ইউটিলিটি বিলের কপি: আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্যাস বা বিদ্যুৎ বিলের কপি (যদি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হয়)।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: ন্যূনতম ৮ম শ্রেণী পাসের সার্টিফিকেট।

  • ছবি: আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের স্পষ্ট ছবি।


ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে আপনাকে মূলত ৩টি বড় ধাপ পার করতে হবে:

ধাপ ১: লার্নার বা শিক্ষানবিস লাইসেন্সের আবেদন

লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো লার্নার লাইসেন্স (Learner License) নেওয়া।

১. প্রথমে বিআরটিএ-এর অফিশিয়াল সার্ভিস পোর্টাল BSP (BRTA Service Portal)-এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।

২. "আবেদন" অপশনে গিয়ে লার্নার লাইসেন্স সিলেক্ট করুন এবং আপনার NID নম্বর দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন।

৩. এরপর মেডিকেল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দিন।

৪. ফি জমা দিলেই আপনার লার্নার লাইসেন্সটি রেডি হয়ে যাবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। এই লার্নার কার্ডেই আপনার ড্রাইভিং পরীক্ষার তারিখ ও স্থান লেখা থাকবে (সাধারণত ২-৩ মাস পর পরীক্ষা হয়)।

ধাপ ২: ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা (লিখিত, মৌখিক ও প্র্যাকটিক্যাল)

নির্ধারিত তারিখে লার্নার কার্ড ও মূল কাগজপত্র নিয়ে আপনাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ৩টি পরীক্ষা হবে:

  • লিখিত পরীক্ষা: ট্রাফিক সাইন, নিয়মকানুন ও মোটরযান আইন নিয়ে ছোট একটি পরীক্ষা।

  • মৌখিক পরীক্ষা: ট্রাফিক সাইন দেখে বলতে হবে সেটির মানে কী।

  • প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা: আপনাকে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালিয়ে দেখাতে হবে (যেমন: Zig-zag বা L-শেপ ড্রাইভিং)।

ধাপ ৩: স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের জন্য ফাইনাল আবেদন

পরীক্ষায় পাস করার পর আপনার মোবাইলে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) বা মেসেজ আসবে।

১. আবার BSP পোর্টালে লগইন করে "স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স"-এর জন্য আবেদন করুন।

২. আপনার ক্যাটাগরি (পেশাদার বা অপেশাদার) সিলেক্ট করে মূল লাইসেন্সের সরকারি ফি অনলাইনে জমা দিন।

৩. ফি জমা দেওয়া হলে আপনাকে একটি ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স (e-Driving License) দেওয়া হবে।

এটি প্রিন্ট করে আপনি যেকোনো জায়গায় গাড়ি চালাতে পারবেন, পুলিশ ধরলে এই কপি দেখালেই হবে। পরবর্তীতে স্মার্ট কার্ড রেডি হলে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


💰 ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি এবং মেয়াদ

লাইসেন্সের ধরন ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ফি নির্ধারিত হয়:

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি এবং মেয়াদ


Next Post Previous Post